সংবাদ শিরোনামঃ
বুড়িগোয়ালিনীতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্যোগ নিলেন জি এম রুস্তম আলী শ্যামনগরে রাস্তার ইট সরিয়ে জনদুর্ভোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত সংস্কারের আবেদন কালিগঞ্জ উপজেলায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন  বনবিভাগের যোগসাজশে সুন্দরবনে মাছ শিকারের অভিযোগ, ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ ও মাছ পরিবহন করছে শ্যামনগরের নিহত জেলে আমিনুর ইসলামের পরিবারকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা নীলডুমুর বিজিবির অভিযানে বালুর নৌকাসহ একজন আটক, ভ্রাম্যমান আদলাতে জরিমানা দিয়ে মুক্তি  শ্যামনগর বুড়িগোয়ালিনীতে ইজিবাইক শ্রমিক সমবায় সমিতির গাড়ি রাখার স্থান পাকাকরণের উদ্বোধন সোমবার সারাদিন ফুটবল মার্কায় ভোট দিন ৬ মাস চিকিৎসার পর সুন্দরবনে ফিরছে আহত বাঘিনী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সুস্থ করে অবমুক্ত আবু সুফিয়ান ফয়সালকে ফুটবল মার্কার ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন
বনবিভাগের যোগসাজশে সুন্দরবনে মাছ শিকারের অভিযোগ, ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ ও মাছ পরিবহন করছে

বনবিভাগের যোগসাজশে সুন্দরবনে মাছ শিকারের অভিযোগ, ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ ও মাছ পরিবহন করছে

বুড়িগোয়ালিনী(শ্যামনগর) প্রতিনিধি:

সুন্দরবনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বনবিভাগের একটি প্রকল্পের ঠিকাদারের ট্রলার ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের জন্য টিলা (উঁচু স্থান) নির্মাণকাজ চলছে। ওই প্রকল্পের ঠিকাদার আলমের মালামাল পরিবহনকারী ট্রলারে নিয়মিত বরফ বহন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই বরফ ব্যবহার করে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে জাল পেতে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে একই ট্রলারে বন থেকে বাইরে আনা হয়।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সুন্দরবনে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় সাধারণ জেলে ও বনজীবীরা বনে প্রবেশ করতে না পারলেও ঠিকাদারের ট্রলার অবাধে চলাচল করছে। ফলে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও পরিবহনের ঘটনা ঘটছে বলে তাদের সন্দেহ। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট ট্রলারে কোনো ধরনের তল্লাশি বা নজরদারি করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মচারী বলেন, “গত বছর একবার আলম ঠিকাদারের ট্রলারে বরফ দেখতে পাই। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘অল্প কিছু মাছ পেলে খাওয়ার জন্য বরফে রাখি।'”

স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবন রক্ষায় আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ট্রলারে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তারা।

রবিবার (১২জুলাই ) সকালে ঠিকাদার আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “আমি এই তারিখে বরফ নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোনো মাছ পায়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তার ইরফান উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে পশ্চিম সুন্দরবনের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমানের নাম্বারে ফোন করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *